কবিতা; তাপস সরকার;
মর্নিং ওয়াক করছিলাম।
পাকা রাস্তার ডানদিকে সারিসারি গাছের
একটির নিচে এক থোকা কৃষ্ণচূড়া পরে
তার কিছু পাঁপড়ি লোকের আঘাতে নষ্ট হয়েছে,
তবু লাল রঙের এক আবিষ্টটা
অনেককে হয়তো কাছে টেনে নিতে পারে,
অন্তত আমি পারিনি তাকে এড়িয়ে যেতে।
হাতে তুলে দাড়িয়ে পড়লাম কিছুক্ষণ,
তখনি সৌন্দর্য্য শব্দের ততটা ভেতরে যেতে পারিনি,
তাই পকেটে রেখে হাঁটতে লাগলাম।
ফ্ল্যাটে ফিরে দেখি কৃষ্ণচূড়ার সতেজভাব আর নেই,
লাল রং আরো রক্তিম হয়েছে
সেখানে হয়ত কেউ মৃত্যুর কিছু চিহ্ন দেখতে পায়,
আমি পাইনি…
তাই অযোগ্য বলে ফেলে দিতে পারলামনা।
সৌন্দর্য্য ও বোধের মধ্যে যে একটা ছোট্ট মন লুকিয়ে
তাকে আঘাত করতে পারলামনা।
আসলে সুন্দর যা কিছু তাতে আমরা আপন হতে চাই।
তবে কি সুন্দর সব কিছুই ভালো লাগে?
সুন্দর মানেই কি ভালোবাসা-প্রেম সম্পর্কে জড়ানো যায়?
সুন্দর সব কিছু-
যেমন ফুল, ছবি, শিশু, মানুষ- নারী- পুরুষ?
ভ্রূণের শিশু কি আজও হত্যা হয়না?
নিষ্পাপ প্রাণীরা কি মানুষের বিপরীতে টিকে থাকে?
আগুনের আলোয় জোনাকি কি মৃত্যু বরণ করেনা?
মানুষের ভালো লাগাকে কি ঠিক ভালোবাসা বলা চলে?
আবার সেই ভালোবাসাকে কি ঠিক প্রেম বলা যায়?
প্রকৃতির নির্বাচন অন্যরকম।
কেবল ব্যক্তির মনস্তাত্ত্বিক দিককে বোঝা কঠিন
ঠিক এই সম্পর্কগুলো যেন অনির্দিষ্ট অস্পষ্ট।
যাইহোক, আমি ফিকে হয়ে যাওয়া কৃষ্ণচূড়াকে
ফেলে দিতে পারিনি কোন কারণ কিংবা অকারণে।
বইয়ের পাতায় অক্ষরের কাছে তাকে আটকে রাখলাম-
অনেক, আরও অনেক জিজ্ঞাসা নিয়ে;
হয়তো কালকের মর্নিং ওয়াকে উত্তর খুঁজে পাব।
#মিস্টিক_পিউরিস্ট


